বসন্তে আজ ধরার চিত্ত হল উতলা। বুকের 'পরে দোলে রে তার পরান-পুতলা। আনন্দেরি ছবি দোলে দিগন্তেরি কোলে কোলে, গান দুলিছে,নীলাকাশের হৃদয়-উথলা। আমার দুটি মুগ্ধনয়ন নিদ্রা ভুলেছে। আজি আমার হৃদয়-দোলায় কে গো দুলিছে। দুলিয়ে দিল সুখের রাশি লুকিয়ে ছিল যতেক হাসি, দুলিয়ে দিল জনমভরা ব্যথা-অতলা।
যে গান গাহিয়াছিনু কবেকার দক্ষিণ বাতাসে সে গান আমার কাছে কেন আজ ফিরে ফিরে আসে শরতের অবসানে। সেদিনের সাহানার সুর আজি অসময়ে এসে অকারণে করিছে বিধুর মধ্যাহ্নের আকাশেরে; দিগন্তের অরণ্যরেখায় দূর অতীতের বাণী লিপ্ত আছে অস্পষ্ট লেখায়, তাহারে ফুটাতে চাহে। পথভ্রান্ত করুণ গুঞ্জনে মধু আহরিতে ফিরে, সেদিনের অকৃপণ বনে যে চামেলিবল্লী ছিল তারি শূন্য দানসত্র হতে। ছায়াতে যা লীন হল তারে খোঁজে নিষ্ঠুর আলোতে। শীতরিক্ত শাখা ছেড়ে পাখি গেছে সিন্ধুপারে চলি, তারি কুলায়ের কাছে সে কালের বিস্মৃত কাকলি বৃথাই জাগাতে আসে। যে তারকা অস্তে গেল দূরে তাহারি স্পন্দন ও-যে ধরিয়া এনেছে নিজ সুরে।